মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

তজুমদ্দিন উপজেলার ইতিহাস

 

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা প্রকৃতির সুরম্য লীলানিকেতন প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার করালঘ্রাসী মেঘনার কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে নদী বিধৌত সবুজ ছায়া ঘেরা তজুমদ্দিন উপজেলা। ঐতিহাসিকভাবে প্রাক্তন বৈষখালী অর্থাৎ মহেশখালীর বাঁকে তৎকালীন নায়েব তমিজউদ্দিন-এর নামানুসারে এই উপজেলার নাম হয় তজুমদ্দিন। তজুমদ্দিনের আয়তন ৫১২.৯২ ব.কি.মি.। মেঘনার ভাঙ্গনে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে এই উপজেলাটির ভূ-খণ্ড। নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। তার মধ্যে চর জহিরউদ্দিন বড় মলংচড়া ও সোনাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। তবে এর ইতিহাস সবচেয়ে করুণ। নোয়াখলীর সাথে বহু রক্তারক্তি ঘটনার মধ্য দিয়ে চরটি তজুমদ্দিন উপজেলার অর্ন্তগত হয়েছে। চর মোজাম্মেল, চর নাসরিন, চর লাদেন, সিডার চর আরো অনেক নাম না রাখা চর তজুমদ্দিনের মেঘনার গর্ভে জেগে উঠেছে। উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১,৩৬,২৪০  জন প্রায় এর বেশীর ভাগ লোকই বসবাস করেন এই সকল চরাঞ্চলে। এখানে উৎপাদিত হয় ধান, আলু, বাদাম, গম, সরিষা, তিল আখ, নারিকেল, সুপারি ও পান। আর পাশাপাশি মেঘনা নদীতে শিকার করছে ইলিশ। জেলা শহর ভোলা থেকে তজুমদ্দিনের দূরত্ব ৪৭ কি.মি.। ঢাকা থেকে বিকেলের লঞ্চে উঠলে ভোর না হতেই তজুমদ্দিন ঘাটে পৌঁছানো যায়। স্থলপথে ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর ঘাট হয়ে ফেরিতে চড়ে ইলিশা ঘাট দিয়ে ভোলা হয়ে তজুমদ্দিনে আসা যায়। ভোলা চরফ্যাশন মহাসড়কের বোরহানউদ্দিনের কুঞ্জেরহাট থেকে ১৫ কি.মি. দূরত্বে উপজেলা সদর। প্রধান এই সড়কটি অত্যন্ত ভাল অবস্থায় রয়েছে। চর চহিরউদ্দিনে গাড়ি চলার রাস্তা না থাকলেও এলজিইডির রাস্তায় মোটরসাইকেল এ প্রাপ্ত থেকে ও প্রান্তে যাতায়াত করা যায়।

 

উত্তরে : দৌলতখান   

দক্ষিণে : লালমোহন 

পূর্বে: মনপুরা 

পশ্চিমে : বোরহানউদ্দিন  

                    

 শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ক্রমবিন্যাসে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ভোলা অবস্থান করছে ৬৩ নম্বরে। ভোলা জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে তজুমদ্দিন ৬ নম্বর অবস্থানে। এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার গুণগতমান কিছুটা হতাশাব্যঞ্জক। শিক্ষিতের হার ৪৩.২%। বতর্মানে এ উপজেলায় ১০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি দাখিল মাদরাসা, ৫টি আলিম মাদরাসা, ৩টি ফাজিল মাদরাসা ও একটি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে। সকল প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ১,০০০। বিদ্যালয়গুলোর ভৌত অবকাঠামো সন্তোষজনক। কিন্তু ২০১৩ সালের পিএসপির ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় পাসের হার শতকরা ৯৭-৯৮ভাগ। পক্ষান্তরে এপ্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীর হার শতকরা ২-৩ ভাগ। অন্যদিকে জেএসসির ফলাফল নৈরাশ্যজনক। ২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫০৭ বছর পর ২-১ জন এপ্লাস পায় নিজেদের প্রচেষ্টায়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ঘনত্ব খুবই বেশি। কোথাও কোথাও আধা কিলোমিটারের মধ্যে ৪-৫টি বিদ্যালয় দেখা যায়। বতর্মানে চরাঞ্চলে আরো প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রক্রিয়া চলমান।

এটাই এই উপজেলার ইতিহাস